২০ মে, ২০২৬

টানা চার টেস্ট জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশের

টানা চার টেস্ট জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশের

বাংলাদেশ ক্রিকেটের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল সোনালী পালক। পাকিস্তানকে তাদেরই মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার পর, এবার ঘরের মাঠেও বাবর-রিজওয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করার অনন্য এক কীর্তি গড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সিলেটের মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পর দ্বিতীয় কোনো দল হিসেবে পাকিস্তানকে টানা চার টেস্টে হারানোর স্বাদ পেল তারা। একই সাথে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথম টানা চারটি ম্যাচ জয়ের অনন্য নজির গড়ল টাইগাররা।

বাংলাদেশের এমন অবিস্মরণীয় জয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বইছে প্রশংসার জোয়ার। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সাবেক তারকা ক্রিকেটাররাও বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে কুর্নিশ জানাতে কার্পণ্য করছেন না। পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফ এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন আর আগের জায়গায় নেই, তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এটি কেবল হোম কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে জেতা নয়। কারণ তারা এর আগে আমাদের মাটিতেও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে এসেছে। তারা মূলত প্রতিপক্ষের দুর্বলতা বুঝে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে খেলছে।”

টাইগারদের ক্রিকেট কাঠামোর প্রশংসা করে লতিফ আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ‘এ’ দলের পাইপলাইন এখন দারুণ শক্তিশালী। তাদের কঠোর পরিশ্রমেরই ফল এই সাফল্য। এখনকার বাংলাদেশ আর শুধু স্পিন-সহায়ক ‘টার্নিং ট্র্যাক’ বানিয়ে জেতার অপেক্ষায় থাকে না। তারা এখন পেস এবং স্পিন—দুই আক্রমণ বিভাগ দিয়েই ম্যাচ জেতার সামর্থ্য রাখে।”

তবে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দল কিছুটা লড়াইয়ের মানসিকতা দেখালেও, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। পাকিস্তানের এই লজ্জাজনক হারে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমল। বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানকে একহাত নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “বর্তমান পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক গোছানো এবং ভালো দল। পাকিস্তান এখন অনেক বাজে ক্রিকেট খেলছে।”

সিলেটের সবুজ ঘাসে বাংলাদেশের এই নতুন ইতিহাস লেখার দিনে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটাই সুর— এই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি হয়ে উঠুক বাংলাদেশ।