১৯ মে, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও সরকারের নীরবতার সমালোচনা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও সরকারের নীরবতার সমালোচনা

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে একের পর এক নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটলেও বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। কসবা সীমান্তসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন—

"সীমান্তে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে আমাদের দায়িত্ব দিক; আমরা ক্ষমতায় এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব।"

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে ফাঁসির দাবি
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা অভিযোগ করেন, ১৯৭৫ সালের পর যেভাবে শেখ মুজিবের বাহিনী ভারতে আশ্রয় নিয়ে তৎকালীন সরকারকে হেনস্তা করেছিল, ঠিক একইভাবে বর্তমানে শেখ হাসিনা ওপারে বসে বাংলাদেশের মানুষকে ‘ডিস্টার্ব’ করছেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের সাথে যোগসাজশ করে সীমান্তে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডগুলো চালাচ্ছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে পারলেই সীমান্ত হত্যা বন্ধ সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএসএফ ও বিজিবির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) ‘বর্বর ও খুনি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা শুধু সাধারণ মানুষকে হত্যাই করছে না, বরং বাংলাদেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে মাদক ও ইয়াবা সরবরাহ করছে।

একই সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিহত খাদিমুলের বাবা জানিয়েছেন তার ছেলে মাছ ধরতে গিয়ে গুলিতে শহীদ হয়েছে। অথচ বিজিবি যে প্রেস রিলিজ দিয়েছে, তা মূলত বিএসএফের সাজানো বয়ানের হুবহু কপি। তিনি অবিলম্বে বিজিবিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীনভাবে কাজ করার উপযোগী করার দাবি জানান।

ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক এযাবৎকালে সীমান্তে নিহত সকল ব্যক্তির পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর দাবি জানান। সেই সাথে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—

ভবিষ্যতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি সীমান্ত-শহীদ পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

সীমান্তে চোরাচালানের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানোর প্রবণতা বন্ধ করা হবে, কারণ সীমান্তের প্রতিটি মানুষ আজ ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার।

‘রেড অ্যালার্ট’ জারির আহ্বান
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্ত এলাকায় সরকারকে দ্রুত ‘রেড অ্যালার্ট’ জারির আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সাথে তিনি সীমান্তের সাধারণ বাসিন্দাদের নিজেদের জানমাল ও সুরক্ষার স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সংঘবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন।