১৯ মে, ২০২৬

জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, বাধা শুধু রিজওয়ান

জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, বাধা শুধু রিজওয়ান

চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য অসম্ভব ৪৩৭ রান। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো নজির নেই। তাই তৃতীয় দিন শেষেই ক্রিকেটপ্রেমীরা ধরে নিয়েছিলেন, এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় কেবলই সময়ের ব্যাপার। চতুর্থ দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা জাগলেও, মোহাম্মদ রিজওয়ানের লড়াকু ব্যাটিংয়ের কারণে খেলা গড়িয়েছে পঞ্চম দিনে। তবে দিনশেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান তোলা পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সুবাস নিয়েই মাঠ ছেড়েছে শান্তর দল।

ঐতিহাসিক এই জয়ের জন্য পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ৩ উইকেট; অন্যদিকে অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে আরও ১২১ রান। ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন রিজওয়ান, অন্য প্রান্তে ৮ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন সাজিদ খান।

উইকেট যখন 'পাটা', তাইজুলের ধৈর্যই ত্রাতা
সিলেটের উইকেট চতুর্থ দিনে এসে অনেকটাই 'পাটা' (ব্যাটিং সহায়ক) হয়ে ওঠে। ফলে উইকেট থেকে বোলাররা খুব একটা সুবিধা পাচ্ছিলেন না। তবে এমন প্রতিকূল কন্ডিশনেও ধৈর্য ধরে টানা ভালো জায়গায় বল করার পুরস্কার পেয়েছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে তিনিই চতুর্থ দিনের সেরা বোলার। এছাড়া তরুণ পেসার নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ দিনের শুরুতে পাকিস্তানের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইসকে দ্রুত ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিরোধ ও দুই জুটি
অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান কিন্তু সহজে অস্ত্র সমর্পণ করেনি। দুটি বড় জুটির ওপর ভর করে তারা ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছিল।

বাবর-মাসুদ জুটি: তৃতীয় উইকেটে শান মাসুদ ও বাবর আজম ৯২ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন। ৪৭ রান করা বাবরকে ফেরাতে বোলার তাইজুলের চেয়ে কিপার লিটন দাসের অবদানই ছিল বেশি। লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাওয়া বল বাবরের ব্যাট ছুঁলে নিচু হয়ে আসা ক্যাচটি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় গ্লাভসবন্দি করেন লিটন।

রিজওয়ান-সালমান জুটি: বাবর ও সৌদ শাকিল (নাহিদের দ্বিতীয় শিকার) বিদায় নিলে ষষ্ঠ উইকেটে সালমান আগাকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৪ রানের বিশাল জুটি গড়েন রিজওয়ান। এই জুটিটি একসময় বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

শেষ বিকেলে তাইজুলের 'ম্যাজিক'
যখনই ম্যাচটি বাংলাদেশের হাত থেকে ফসকে যাওয়ার আভাস দিচ্ছিল, ঠিক তখনই শেষ সেশনে নতুন বল হাতে জ্বলে ওঠেন তাইজুল ইসলাম। দারুণ এক স্ট্রেট ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড করেন ৭১ রান করা বিপজ্জনক সালমানকে। এই জুটি ভাঙার মাত্র ১০ বলের মাথায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরি থাকা হাসান আলীকেও সাজঘরে ফেরান তাইজুল। মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে এই ২ উইকেট পতনই পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

শেষ দিনের সমীকরণ ও লক্ষ্য
প্রথম ইনিংসে দ্রুত ২৮ বলে ৩৮ রান করা সাজিদ খান এখনো রিজওয়ানের সঙ্গে ক্রিজে টিকে আছেন। ফলে পঞ্চম দিনের সকালে এই জুটি দ্রুত ভাঙাই হবে বাংলাদেশের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে সেট হয়ে যাওয়া রিজওয়ানকে দ্রুত ফেরাতে পারলে ঐতিহাসিক এক টেস্ট জয়ের আনন্দে মাতবে বাংলাদেশ।