১৪ মে, ২০২৬

আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা: 'চোর' স্লোগান ও নজিরবিহীন উত্তেজনা

আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা: 'চোর' স্লোগান ও নজিরবিহীন উত্তেজনা

কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে আজ এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল বিচারবিভাগীয় মহল। দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্ষমতার অধ্যায় শেষ হওয়ার পর, আজ এক ভিন্ন ভূমিকায় ধরা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় নিজের দলের কর্মীদের সপক্ষে সওয়াল করতে আইনজীবীর কালো কোট গায়ে জড়িয়ে হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুনানি শেষে আদালত কক্ষ থেকে বেরোনোর সময় আইনজীবীদের একাংশের তীব্র বিক্ষোভ ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি।

শুনানি ও মমতার সওয়াল
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি শুরু হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী শীর্ষন্য বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নিজেই সেই মামলার সওয়াল করতে অংশ নেন। এজলাসে তিনি অভিযোগ করেন, "রাজ্যে তৃণমূল কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুরাও রেহাই পাচ্ছে না। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার মাঝেই আমাদের ১০ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।" তিনি অবিলম্বে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা
শুনানি শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এজলাস থেকে বেরিয়ে লবির দিকে এগোচ্ছিলেন, তখনই আগে থেকে সেখানে জমায়েত হওয়া আইনজীবীদের একটি অংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে হাইকোর্ট চত্বর। বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের সদস্যদের তাঁকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।

ভিড়ের চাপে এবং উত্তেজনার মাঝে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে চিৎকার করে বলেন, “ইউ আর বিটিং মি” (আপনারা আমাকে মারছেন)। এই মন্তব্য পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া:

তৃণমূল কংগ্রেস: দলের প্রবীণ নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এটি গণতন্ত্রের লজ্জা। আদালত চত্বরে একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ প্রমাণ করে যে বিরোধীরা কতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এমন হতে পারে, তবে সাধারণ কর্মীদের অবস্থা কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।"

বিজেপি: অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, "উনি আইনের দ্বারস্থ হতেই পারেন, সেটা তাঁর অধিকার। কিন্তু এখন তো ওঁর হাতে করার মতো বিশেষ কিছু নেই, তাই এই নতুন ভূমিকা নিচ্ছেন।