১৪ মে, ২০২৬

গুরুদাসপুরে নারী ও মাদকসহ আটক যুবদল নেতাকে ১৫১ ধারায় মামলা দিল পুলিশ

গুরুদাসপুরে নারী ও মাদকসহ আটক যুবদল নেতাকে ১৫১ ধারায় মামলা দিল পুলিশ

নাটোরের গুরুদাসপুরে রেজাউল করিম রেজা (৪৫) নামের এক যুবদল নেতাকে বুধবার রাতে নারী ও মাদকসহ আটকের পর ১৫১ ধারায় মামলা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। অথচ অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে একই অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইনিয়নের হামলাইকোল বুলবুলের বাড়ি থেকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। রেজাউল করিম রেজা রেজাউল করিম রেজা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ১নং যুগ্ন-আহবায়ক এবং একই গ্রামের মৃত রিয়াাজ উদ্দিনের ছেলে । ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়- যুবদল নেতা রেজা বিছানার ওপর শুয়ে টাকা গুনছেন। তার পাশেই সেবনের জন্য গাঁজা প্রস্তুত করছেন এক নারী। মুহুর্তেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে দল থেকে বহিস্কার করা হয় রেজাকে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলেন, হামলাইকোলে ওই নারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন যুবদল নেতা রেজাইল করিম। একই কক্ষে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে ৯৯৯-এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে পুলিশ আনা হয়। পুলিশ এসে ওই নারীসহ যুবদল নেতা রেজাউলকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সাবেক কয়েকজন নেতা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পস্টভাবে মাদক দেখা গেছে। তাছাড়া অন্য নারীর সঙ্গে একই কক্ষে অবৈধভাবে অবস্থান করেছেন ওই যুবদল নেতা। অথচ পুলিশ বৃহস্পতিবার দিনভর নাটকীয়তার পর নানামুখী চাপে যুবদলের ওই নেতাকে ১৫১ ধারায় একটি মামলায় অভিযুক্ত করেছে। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে নারীবাজ মাদকসেবী ওই যুবদল নেতাকে সাধারণ মামলা দেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে দলের তৃণমূলে।

তারা বলেন, সম্প্রতি গুরুদাসপুরে উপজেলাজুড়ে ছিনতাই-ডাকাতি ব্যপক আকার ধারণ করেছে। মূলত মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। অথচ প্রমাণ থাকার পরও নানমুখি চাপে পুলিশ মাদকসেবীদের এভাবে সহায়তা করলে কোনোভাবেই মাদকসহ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

এদিকে নৈতিক স্খলন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের নীতি-আর্দশ ও সংহতি পরিপন্থী কাজে লিপ্ত তাকার অপরাধে ওই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক জাহিদ হাসান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিস্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম মোবাইলফোনে বলেন, আটকৃত যুবদল নেতা ও ওই নারীর কাছে পুলিশ কোনো মাদক পায়নি। একারণে মাদকের মামলা দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই কক্ষে অবৈধভাবে নারীর সঙ্গে অবস্থান করায় যুবদলনেতার রেজার বিরুদ্ধে ১৫১ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে যুবদল নেতাকে সাধারণ মামলা দিতে রাজনৈতিক চাপ আছে কী না এমন প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি