১৩ মে, ২০২৬

২০২৬ সালেই আসছে নবম পে স্কেল: প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের আভাস

২০২৬ সালেই আসছে নবম পে স্কেল: প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের আভাস

সরকারি চাকুরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালেই ঘোষণা হতে পারে দেশের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে এই নতুন স্কেল নিয়ে বর্তমানে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে।

পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রস্তাবিত এই পে স্কেল পর্যালোচনার জন্য ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বর্তমানে আর্থিক সংশ্লেষ ও বিভিন্ন সুপারিশ বিশ্লেষণ করছে। করোনা মহামারি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ২০১৫ সালের পর নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা সম্ভব না হলেও, চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ প্রশাসনের সব স্তরে এ নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য চিত্র
বর্তমানে সরকারি মহলে একটি খসড়া তালিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। যদিও এটি চূড়ান্ত নয়, তবে প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে বেতন বৃদ্ধির এক বিশাল চিত্র ফুটে উঠেছে:

১ম গ্রেড: প্রস্তাবিত মূল বেতন ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত)।

৯ম গ্রেড: প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক বেতন ৪৫,১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০৮,৮০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

১০ম গ্রেড: ৩২,০০০ টাকা থেকে ৭৭,৩০০ টাকা।

২০তম গ্রেড: সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ২০,০০০ টাকা থেকে ৪৮,৪০০ টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর একনজরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রেড:

গ্রেড    বেতন স্কেল (টাকা)


০১    ১,৬০,০০০/- (নির্ধারিত)

০৫    ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০

১০    ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০

১৫    ২২,৮০০ – ৫৫,২০০

২০    ২০,০০০ – ৪৮,৪০০


চ্যালেঞ্জ ও স্বস্তি
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এত বড় অঙ্কের বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটি হবে এক বিশাল স্বস্তির খবর।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ পেশ করার পর সরকার সেটি যাচাই-বাছাই করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরেই এই নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।