১৩ মে, ২০২৬

আইসিসি পরোয়ানা এড়াতে পার্লামেন্টে আশ্রয়: ম্যানিলায় গোলাগুলি ও চরম উত্তেজনা

আইসিসি পরোয়ানা এড়াতে পার্লামেন্টে আশ্রয়: ম্যানিলায় গোলাগুলি ও চরম উত্তেজনা

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আজ বুধবার এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সাবেক পুলিশ প্রধান এবং বর্তমান সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তার এড়াতে পার্লামেন্ট ভবনে আশ্রয় নিলে সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। এই ঘটনায় পুরো ম্যানিলা জুড়ে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত
সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের শাসনামলে বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর প্রধান রূপকার ছিলেন রোনাল্ড দেলা রোসা। ওই অভিযানে হাজার হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আইসিসি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গ্রেপ্তার এড়াতে আজ তিনি পার্লামেন্ট ভবনে আশ্রয় নেন এবং সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা তাঁর গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে।

পার্লামেন্টে হামলা ও আতঙ্ক
প্রত্যক্ষদর্শী ও এএফপির সাংবাদিকদের তথ্যমতে, আজ রাতে ছদ্মবেশী সামরিক পোশাক পরা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি পার্লামেন্ট ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সময় অন্তত পাঁচটি গুলির শব্দ শোনা যায়।

গুলির শব্দে ভবনের ভেতরে থাকা অন্যান্য সিনেটররা প্রাণভয়ে নিজ নিজ কার্যালয়ে তালাবদ্ধ হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে গোলাগুলির পর থেকে অভিযুক্ত সিনেটর দেলা রোসা কোথায় আছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়ানিতো ভিক্তর রেমুলা। তিনি সাংবাদিকদের জানান:

"এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কেউ হতাহত হননি। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পুরো ভবন ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে।"

প্রেক্ষাপট
২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের পুলিশ প্রধান থাকাকালীন দেলা রোসা দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই অভিযানে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। এর আগে গত বছরের মার্চে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকে গ্রেপ্তার করে বিচারের জন্য দ্য হেগে পাঠানো হয়।

সমুদ্রতীরবর্তী পার্লামেন্ট ভবনটি বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ দল ঘিরে রেখেছে। এই ঘটনা ফিলিপাইনের রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।