দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এলেও শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত বাগানবাড়ির ‘সোফায় লুকানো’ ডলারের কেলেঙ্কারিতেই আটকা পড়লেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। আলোচিত ‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারি’ তদন্তে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে দেশটির পার্লামেন্ট। এই কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে রামাফোসার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—তিনি কি ক্ষমতায় থাকবেন নাকি অভিশংসিত হবেন।
কী এই ‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারি’?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। রামাফোসার মালিকানাধীন ‘ফালা ফালা’ নামক একটি বাগানবাড়ি থেকে প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিপুল পরিমাণ এই বৈদেশিক মুদ্রা একটি সোফার গদির ভেতরে লুকানো ছিল। ২০২২ সালে বিষয়টি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে—একজন প্রেসিডেন্ট কেন ব্যাংকে টাকা না রেখে আসবাবপত্রের ভেতরে অর্থ লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং এই অর্থের উৎস কী?
আদালতের নির্দেশে তদন্তের মোড়
এর আগে একবার পার্লামেন্টে এই তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হলেও গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত ঐতিহাসিক এক রায়ে জানান, তদন্ত বন্ধ করা অসাংবিধানিক ছিল। আদালতের নির্দেশের পরই সোমবার (১১ মে) দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্পিকারকে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে যে রামাফোসা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তথ্য গোপন করেছেন কি না।
অনড় রামাফোসা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
সংকটময় এই পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। বরং তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ’-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এদিকে রামাফোসার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার (১২ মে) জরুরি সভায় বসছে।
অভিশংসন কি সম্ভব?
প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করতে হলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। যদিও ২০২৪ সালের নির্বাচনে এএনসি তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তবুও পার্লামেন্টে তাদের আসন সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশের বেশি। ফলে বিরোধী দলগুলো যদি একজোট হয়ে রামাফোসার বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং এএনসি-র ভেতরেও ফাটল ধরে, তবেই রামাফোসার বিদায় নিশ্চিত হতে পারে।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে এই ঘটনাকে বর্ণবাদ পরবর্তী সময়ের অন্যতম বড় সাংবিধানিক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।