১১ মে, ২০২৬

ধুনটে মাদ্রাসা ছাত্রের সঙ্গে ‘অনৈতিক’ আচরণ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ

ধুনটে মাদ্রাসা ছাত্রের সঙ্গে ‘অনৈতিক’ আচরণ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ

বগুড়ার ধুনট দারুল উলুম ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম আব্দুল বাছেতের বিরুদ্ধে এক আবাসিক ছাত্রের (১৪) সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্র স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

ভুক্তভোগী ছাত্রটি সারিয়াকান্দি উপজেলার বাসিন্দা এবং ওই মাদ্রাসার ইরাজদাহম জামাত শ্রেণীর আবাসিক শিক্ষার্থী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক আব্দুল বাছেত মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক হওয়ার সুবাদে ওই ছাত্র তার কক্ষেই রাত যাপন করতো। সেই সুযোগে গভীর রাতে শিক্ষক তাকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন। ছাত্রটি রাজি না হলে তাকে মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হতো। এমনকি অন্য ছাত্রদের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই মাস আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলামের কাছে মৌখিক অভিযোগ করে ওই ছাত্র। তখন শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে আব্দুল বাছেতকে আবাসিকের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তাকে দিনের বেলা পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রদের ওপর মানসিক চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো অব্যাহত রাখলে বাধ্য হয়ে ছাত্রটি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বাছেত দাবি করেন, উপজেলা মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে ছাত্রকে দিয়ে এই মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা কিছুটা নিশ্চিত করে বলেন, “ছাত্রকে দিয়ে শরীর টিপিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে আবাসিকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তখনই সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল, এখন কেউ কেউ একে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ভুক্তভোগী ছাত্রের অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”