১১ মে, ২০২৬

উল্লাপাড়ায় ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে সাবেক ম্যানেজারকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

উল্লাপাড়ায় ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে সাবেক ম্যানেজারকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আব্দুস সোবাহান (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার গভীর রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত সোবাহান ওই গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে এবং স্থানীয় দুগ্ধ উৎপাদন সমিতির সাবেক ম্যানেজার ছিলেন। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী শেফালী খাতুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেটে সোবাহানের ঘরে প্রবেশ করে। তারা ঘুমন্ত সোবাহানকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাকে বাঁচাতে স্ত্রী শেফালী খাতুন এগিয়ে এলে ঘাতকরা তার হাতেও কোপ দেয়। গুরুতর আহত শেফালীকে রাতেই সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই পালানোর সময় হায়দুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে রক্তমাখা অবস্থায় আটক করে গ্রামবাসী। পরে তাকে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। আটক হায়দুল নিহত সোবাহানের প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের মেয়ে সাবিনা খাতুন জানান, গ্রামের একটি মসজিদের পুকুর নিয়ে বাবলু, মোতালেব, সাইফুল ও হায়দুল গংদের সঙ্গে তার বাবার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।

তিন বছর আগের হত্যাকাণ্ড: এই পুকুর বিবাদকে কেন্দ্র করে তিন বছর আগে সোবাহানের ছেলে সেলিম আহম্মেদ খুন হন।

মামলা প্রত্যাহারের হুমকি: ছেলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোবাহান বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। ওই মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সাক্ষ্য দেওয়া বন্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে সোবাহানকে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। গ্রামবাসীর হাতে আটক হায়দুল ইসলামকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।”