১১ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ আর নতজানু হবে না: ভারতের পদক্ষেপে ঢাকার কড়া বার্তা

বাংলাদেশ আর নতজানু হবে না: ভারতের পদক্ষেপে ঢাকার কড়া বার্তা

বাংলাদেশ আর আগের অবস্থানে নেই এবং সীমান্তে কোনো ধরনের উস্কানি বা কাঁটাতারের ভয় দেখিয়ে ঢাকাকে দমানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

‘কাঁটাতারের ভয় পায় না এ বাংলাদেশ’
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার বিএসএফ-কে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, “বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ নেই। এ দেশের মানুষ ও সরকার কাঁটাতারের বেড়ার ভয় পায় না। সীমান্তে কেউ যদি আগের নমুনায় কিছু করতে চায়, তবে বাংলাদেশ বসে দেখবে না; আমাদেরও নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ভারতকে মানবিক হতে হবে। দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া এক সন্ত্রাসী (শেখ হাসিনা) এখন ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতকে মনে রাখতে হবে, তাকে যেন সেখান থেকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ দেওয়া না হয়।”

তিস্তা প্রকল্পে চীনের বড় বিনিয়োগ
তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে বড় ধরনের অগ্রগতির আভাস দিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়ন করবে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিস্তা ইস্যুতে চীনের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং তারা অর্থায়নে সম্মত হয়েছে।”

তিস্তা চুক্তিতে ভারতের ওপর চাপ
পশ্চিমবঙ্গে এখন কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় পর্যায়েই বিজেপি ক্ষমতায়। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে তিস্তা চুক্তি সম্ভব হয়নি বলে দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হতো। এই প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুন কবির বলেন, “এখন আর সেই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা আশা করছি, এখন তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রতিবন্ধকতা কমবে।”

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বেইজিং সফরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। চীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক অংশীদার হিসেবে তেরেক রহমানের সরকারের সঙ্গে কাজ করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।