১০ মে, ২০২৬

নাসিরনগরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার: ‘হাওর রক্ষায় আসছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’

নাসিরনগরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার: ‘হাওর রক্ষায় আসছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলার মেদির হাওর পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ঘোষণা করেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে কৃষকদের সুরক্ষায় বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

সহায়তার হাত ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান
উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণের মাধ্যমে সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এসময় দুর্যোগে প্রাণ হারানো আহাদ মিয়ার পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন মন্ত্রী। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।

সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার ঘোষণা
কৃষিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই নীতিতে বর্তমান সরকার বিশ্বাসী। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে।" এছাড়া কিশোরগঞ্জের 'অল ওয়েদার' সড়কের কারণে হাওরে পানি চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও কৃষকদের দাবি
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে:

মোট আবাদ: ১১ হাজার হেক্টর বোরো ধান।


তলিয়ে গেছে: ৩০৫ হেক্টর জমি।


আর্থিক ক্ষতি: প্রায় ১৩ কোটি টাকা।


তালিকাভুক্ত কৃষক: ২ হাজার ৫০০ জন।


তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি তালিকার চেয়ে অনেক বেশি। অনেক জায়গায় ধান দৃশ্যমান হলেও দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় সেগুলোর গুণমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্বস্তির বিষয় হলো, গত কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মেদির হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। কৃষকরা এখন জেগে ওঠা ধান দ্রুত শুকানোর চেষ্টা করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন নাছরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান। তিনি হাওরের কৃষিজমি রক্ষায় আধুনিক ও টেকসই নাসিরনগর গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।