৯ মে, ২০২৬

বেগমগঞ্জের শতবর্ষী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকার হরিলুট!

বেগমগঞ্জের শতবর্ষী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকার হরিলুট!

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ বিল ও বিভিন্ন খাতে কোটি কোটি টাকার ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গঠিত ম্যানেজিং কমিটি ও সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রশীদ তারেক মিলে বিদ্যালয়টিকে অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ মতবিনিময় সভায় এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন।

সংবাদ সভায় জানানো হয়, ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি একসময় এ অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র থাকলেও গত কয়েক বছরে তা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সাবেক সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণ ও তার ঘনিষ্ঠজনরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের পরিবর্তে লুটপাটে ব্যস্ত ছিলেন।

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও লুটপাটের চিত্র:
বর্তমান সভাপতি জহির উদ্দিন হারুন অভিযোগ করে বলেন, "বিগত কমিটির সময় বিদ্যালয়ের মাসিক বিদ্যুৎ বিল তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পকেটস্থ করা হয়েছে। অথচ বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বিল ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।" এছাড়া বিদ্যালয়ের স্থায়ী সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই এবং ভর্তি বাণিজ্য ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা:
সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রশীদ তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তিনি নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে বিকেল ৩টার পর বিদ্যালয়ে আসতেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত পছন্দের লোকজন নিয়ে রাজনৈতিক আড্ডায় মেতে থাকতেন। তার প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে সাধারণ শিক্ষকরা দীর্ঘ সময় বেতন বঞ্চিত ছিলেন বলেও সভায় দাবি করা হয়।

পাল্টা দাবি ও প্রশাসনের বক্তব্য:
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রশীদ তারেক। তিনি দাবি করেন, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা ও ধোঁয়াশাপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম স্বপন ও সাবেক এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়টির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বর্তমান কমিটি স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকত উল্লা বুলুর সহযোগিতায় বহুতল ভবন নির্মাণ ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়। উক্ত সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।