পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিষদীয় দলের বৈঠক ও সিদ্ধান্ত
আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
অমিত শাহ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন:
"গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আটটি পৃথক প্রস্তাব এলেও প্রতিটি প্রস্তাবে শুভেন্দু অধিকারীর নামই উঠে এসেছে। দ্বিতীয় কোনো নাম প্রস্তাব করার জন্য আমরা যথেষ্ট সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো বিকল্প নাম আসেনি। ফলে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীই হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।"
লড়াই যখন 'দিদির' পাড়ায়
এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় ছিল দেখার মতো। নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে জয়ের পাশাপাশি তিনি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে তাঁকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার 'মমতার পাড়া' হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করলেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খবরে রাজ্য বিজেপি শিবিরে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজভবনে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই নির্ধারিত হবে তাঁর শপথ গ্রহণের চূড়ান্ত তারিখ।