৬ মে, ২০২৬

গুরুদাসপুরে বাড়ছে অস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতি-ছিনতাই আতঙ্কিত মানুষ

গুরুদাসপুরে বাড়ছে অস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতি-ছিনতাই আতঙ্কিত মানুষ

কষ্টের টাকা নিয়ে হাটে যাওয়ার সময় অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী আনুস ও জাহের শাহ। মসজিদে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন ইমাম মাহফুজ আলমও। বুধবার ভোর চারটার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের সামসুজ্জোহা কলেজের সামনে তারা পৃথকভাবে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। তাৎক্ষণিক থানায় গিয়ে সহযোগীতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা। ইমাম মাহফুজ আলম ও ব্যবসায়ী আনুস এবং জাহের শাহ অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পরপরই তারা থানায় এসেছিলেন। তবে সহযোগীতা পাননি। ছিনতাইকারীরা গলায় চাপাতি ধরে টাকা আর মোবাইল ছিনতাই করেছেন। পরে তারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শুধু যে এসব ব্যক্তি-ই ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন তা নয়। এনিয়ে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে গুরুদাসপুর পৌর শহরের মধ্যে একই কৌশলে ৭টি ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৬টি ঘটেছে থানা কমপ্লেক্সের অদূরের একজাজার মিটারের মধ্যে। তবে এসব ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া অর্থ ও মালামাল। একের পর এক ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও তা কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। বিফলে যাচ্ছে পুলিশের কৌশল আর প্রশানের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি-ছিনতাই বাড়ায় স্থানীয় লোকজন চরম আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন।

এর আগে গত শুক্রবার (২ মে) রাত তিনটার দিকে সরকারি কোয়ার্টারে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে বেঁধে ও তার স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ধরে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়। ১৫ এপ্রিল একই কায়দায় থানার অদূরে সোনাউল্লার বাড়িতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি করা হয়। এ সময় ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করা হয়। ওই রাতেই পৌর শহরের আনন্দনগর গ্রামের রমজান হাজির বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি দুধেল গাভী লুট করা হয়। লুট করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারেও। 

সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন থানার আশেপাশের লোকজন। চোখের চিকিৎসক বিদ্যুৎ হোসেন, পৌর সভার কর্মচারী মিলন রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ১৫ থেকে ২০ দিন হলো ছিনতাই-ডাকাতি বেড়েছে। ঘরের বাইরে কাপড় চোপর শুকাতে পারছেন না চুরির ভয়ে। ঘরে টাকা আর স্বর্ণালংকার রাখা নিরাপদ না হয় ছিনতাই রোধে রাত জেগে পাহাড়া দিতে হচ্ছে। রয়েছে প্রাণহানির শঙ্কাও।

রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, তিনি দুর থেকে এসে চাকরি করছেন। আগে স্বভাবিক থাকলেও নির্বাচনের পর থেকে গুরুদাসপুরে নিরাপত্তহীনতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কিছুদিন ধরে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই বেড়েছে। জরুরী প্রয়োজন হলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে রাতে বাড়ির বাইরে যেতে পারছেন না। অথচ তিনি থানার অদূরেই বাস করেন। 

থানা চত্বরের ব্যবসায়ি মুক্তার হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, হাজি আনিসুর রহমানসহ অন্তত ১৫জন বলেন, মাদকের ভয়াবহতা বাড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে ছিনতাই-ডাকাতি। থানার আশে পাশে ছিনতাই অব্যহত থাকলেও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্ক আরো বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থসহ প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফেরা বড় চ্যালেঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হলেও অপরাধ রোধে পুলিশের নিস্ক্রীয় ভূমিকা আরো চিন্তিত করে তুলছে।

ছিনতাই-ডাকাতির বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে গুরুদাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।