৫ মে, ২০২৬

অন্য দেশের বাণিজ্যচুক্তিগুলো তুলনা করে পড়ার পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

অন্য দেশের বাণিজ্যচুক্তিগুলো তুলনা করে পড়ার পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) নিয়ে দেশজুড়ে চলা তীব্র সমালোচনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পাঠকদের ও সমালোচকদের তূলনামূলক পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

১৩১ শর্ত বনাম ৬ শর্ত: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তি
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাত্র ৬টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই ঘটেনি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, "ইন্দোনেশিয়া ২৩১টি শর্তে 'শ্যাল' (বাধ্যতামূলক শর্ত) বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি পড়ার সময় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার করা চুক্তিগুলো পাশে রেখে পড়লে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।"

তিনি আরও জানান, ট্যারিফ বা শুল্ক হারের ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ সুবিধা পেলেও বাংলাদেশ ১৯ শতাংশ পেয়েছে। চুক্তির এই বিষয়গুলো পাবলিক স্পেসে বা সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে জানিয়ে তিনি 'পারচেজ কমিটমেন্ট' বা ক্রয়ের অঙ্গীকারগুলোও অন্য দেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

তিস্তা প্রকল্প: 'ভারতের জন্য বসে থাকব না'
বিকেলে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও সরকারের অনড় অবস্থান পরিষ্কার করেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হওয়ায় তিস্তা চুক্তির জট খুলবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে এখনো সরকার গঠন হয়নি, তারা কী ভাবছে তা না জানা পর্যন্ত অপেক্ষা করা আমাদের কাজ নয়। আমরা আমাদের মানুষের স্বার্থে বসে থাকব না।"

তিস্তা পাড়ের মানুষের 'ইকোলজিক্যাল' বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা হবে। আমাদের কাছে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট'। যে উপায়েই হোক, আমরা আমাদের মানুষের জন্য সর্বোত্তম সমাধানটি বেছে নেব।"

সম্পর্কের নতুন দিগন্ত ও পুশ-ইন আতঙ্ক
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটিই খলিলুর রহমানের প্রথম চীন সফর। এই সফরকে দুই দেশের 'স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ'কে আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

এদিকে, আসামের পর পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশে 'পুশ-ইন' বা লোক ঠেলে পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, ইতিপূর্বে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:

বাণিজ্যচুক্তি: সমালোচনার জবাবে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের চুক্তির সাথে তুলনা করতে বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিস্তা ইস্যু: ভারত চুক্তিতে দেরি করলে বিকল্প হিসেবে চীনের সঙ্গে প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা চলবে।


চীন সফর: নতুন সরকারের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর হিসেবে এটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ।


সীমান্ত নীতি: পুশ-ইন ঠেকাতে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।