৫ মে, ২০২৬

সুবর্ণচরে যুবদল নেতার গোডাউনে মিলল চোরাই কাপড়, গ্রেপ্তার ১

সুবর্ণচরে যুবদল নেতার গোডাউনে মিলল চোরাই কাপড়, গ্রেপ্তার ১

রাজনীতির আড়ালে এ যেন এক দুর্ধর্ষ সিন্ডিকেট! নোয়াখালীর সুবর্ণচরে উপজেলা যুবদলের শীর্ষ নেতার গোডাউন থেকে উদ্ধার হলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খোয়া যাওয়া প্রায় ৬০ লাখ টাকার গার্মেন্টস পণ্য। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে। ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের নাম আসায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার সুবর্ণচরের চরবাটা ও হাতিয়ার বয়ারচর এলাকায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে এই বিশাল চোরাই চালান উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে চলত এই 'অপারেশন'
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে 'কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড'-এর ১৬৩ বান্ডিল কাপড় নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। পথিমধ্যেই চালক সুমনের যোগসাজশে গাড়িটি উধাও করে দেয় একটি চক্র। চক্রের মূল হোতা হিসেবে নাম এসেছে চরবাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশারের। বাশার তার বন্ধু হরণী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও হাতিয়া উত্তর শাখা তাঁতী দলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম খলিলের সহায়তায় কাপড়গুলো সুবর্ণচর ও হাতিয়ার দুর্গম এলাকায় সরিয়ে ফেলে।

যুবদল নেতার গোডাউনে ভাগ-বাটোয়ারা
চুরিকৃত কাপড়ের একটি বড় অংশ মজুদ করা হয়েছিল সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদার মালিকানাধীন চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারের একটি গোডাউনে। গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে সেখান থেকে ৯৬টি কাপড়ের বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। বাকি ৬৭টি বান্ডিল উদ্ধার হয় হাতিয়ার আজিম নগর এলাকার একটি ঘর থেকে।

দায় এড়ানোর লড়াই
চোরাই কাপড় উদ্ধারের ঘটনায় ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে এখন একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন অভিযুক্ত নেতারা। গোডাউন মালিক যুবদল নেতা নুরুল হুদার দাবি, তিনি ঘর ভাড়া দিয়েছেন মাত্র, ভেতরে কী ছিল তা তার জানা ছিল না। অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম ও তাঁতী দল নেতা ইব্রাহীম খলিলও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে একে 'রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' ও 'সহায়তা' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়াই এই অপরাধীদের প্রধান সাহস। প্রভাবশালী নেতাদের সম্মতি ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে এত বড় চোরাই চালান এনে নোয়াখালীর উপকূলে মজুদ করা অসম্ভব। সাধারণ মানুষের দাবি, এই চক্রের বড় বড় রাঘববোয়ালরা যেন রাজনৈতিক পরিচয়ে পার না পেয়ে যায়।

চট্টগ্রাম ডিবির এসআই মহিউদ্দিন রাজু জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশারকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। এই আন্তঃজেলা চোর চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে জাল বিছিয়েছে পুলিশ।

মুক্ত প্রভাত/এসএ