সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ফুজায়রাহ পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ড্রোন হামলায় বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফুজায়রাহর মিডিয়া অফিস নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে আসা ড্রোন হামলার পর এই শিল্প এলাকায় ‘বড় ধরনের আগুন’ লেগেছে।
হামলার বিস্তারিত
সোমবার (৪ মে) বিকেলের পর থেকেই আমিরাতের আকাশসীমায় দফায় দফায় অস্থিরতা শুরু হয়। ড্রোন হামলার ঠিক আগেই আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইরান থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব হলেও একটি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই ফুজায়রাহর পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ড্রোন আঘাত হানার খবর আসে।
জ্বালানি খাতে বড় আঘাত
ফুজায়রাহ আমিরাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি হাব। এখানে ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড বৈশ্বিক তেল বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে) তেল শোধনাগার এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
ইরানের নীরবতা
এই ধারাবাহিক হামলার বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আমিরাত সরকার এই ঘটনাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
আজকের দিনটি আরব আমিরাতের জন্য ছিল বিপর্যয়ের।
১. হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকারে হামলা।
২. আমিরাতের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ।
৩. ফুজায়রাহ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা ও অগ্নিকাণ্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমিরাত সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা