৪ মে, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের তেলের ট্যাংকারে হামলা করেছে ইরান

হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের তেলের ট্যাংকারে হামলা করেছে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ সোমবার এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

আমিরাতের কড়া প্রতিবাদ ও অভিযোগ
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর রেজুলেশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে সরাসরি ইরানকে দায়ী করে বলা হয়েছে:

বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা এবং হরমুজ প্রণালিকে অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) "জলদস্যুতার কাজ"।

এই ধরনের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি।

আমিরাত অনতিবিলম্বে এই হামলা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিঃশর্তভাবে উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন জাহাজ নিয়ে ধূম্রজাল
এই হামলার ঘটনার রেশ ধরে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ দাবি করেছে, জাস্ক দ্বীপের কাছে আইআরজিসি-র সতর্কতা উপেক্ষা করায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নৌজাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং তাদের সকল সম্পদ নিরাপদ রয়েছে।

বৈশ্বিক প্রভাবের শঙ্কা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা