নাটোরের লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম (১৮) নামের এক তরুণ। তবে এই দুর্ঘটনার চেয়েও বেশি ট্র্যাজিক ছিল সেই মুহূর্তটি, যখন কৌতূহলবশত দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ছেলের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার মা রুনিফা বেগম। আজ সোমবার দুপুরে লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের লালপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল লালপুর উপজেলার নাগশোষা গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে আশরাফুল তার মাকে মোটরসাইকেলে করে লালপুরের ত্রিমোহনীতে নামিয়ে দেন। এরপর মাত্র ১০০ মিটার দূরে ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যাওয়ার পথেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই আশরাফুলের মৃত্যু হয়।
মর্মান্তিক সেই মুহূর্ত
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোরগোল পড়ে গেলে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান। রুনিফা বেগমও একজনের মৃত্যুর খবর শুনে কৌতূহলবশত ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে যা দেখলেন, তার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। নিজের কলিজার টুকরোকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি তাৎক্ষণিক জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পুলিশি তৎপরতা
ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকের চালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান:
"আমরা ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করেছি এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।"
সন্তানকে নিরাপদে নামিয়ে দিয়ে এক মুহূর্তের ব্যবধানে সেই সন্তানেরই লাশের মুখোমুখি হওয়া—এমন করুণ পরিণতি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।