যথাযথ সংস্কার কার্যক্রম শুরু না করেই ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এড়িয়ে গেলে রাজপথে আবারও লড়াই শুরু হবে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে 'জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট' শীর্ষক এক জাতীয় কনভেনশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কনভেনশনটির আয়োজন করে এনসিপি’র সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা
রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য নাহিদ ইসলাম কয়েকটি মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব পেশ করেন:
উচ্চ কক্ষ গঠন: সংবিধানে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ তৈরির জন্য উচ্চ কক্ষ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, এটি ভোটের অনুপাতে গঠন করতে হবে যাতে কোনো সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংবিধানের অপব্যবহার করতে না পারে।
নিরপেক্ষ নিয়োগ: নির্বাচন কমিশন, পিএসসি এবং দুদকের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নিয়োগ বন্ধ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ পদ্ধতি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার ওপর জোর দেন তিনি।
সংসদীয় সংশোধনী বনাম সংস্কার পরিষদ
নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন যে, সংসদের সংশোধনীর মাধ্যমে বিএনপি যে সংস্কার আনতে চাচ্ছে তা টেকসই হবে না। তিনি বলেন, “সংস্কার হতে হবে সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে। সংসদের সংশোধনী যে কেউ ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে বাতিল করে দিতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, ৭২-এর সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার পথ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী।
সরকারকে হুঁশিয়ারি
সংসদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত পোষণ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা পার্লামেন্টে অনেক নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি যাতে তা ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে থাকে। কিন্তু সরকার যদি সংস্কার এড়িয়ে যায়, তবে জুলাই বিপ্লবে সংস্কারের পক্ষে ভোট দেওয়া মানুষ বসে থাকবে না।”
শীর্ষ নেতাদের সংহতি
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সঞ্চালনায় এই কনভেনশনে আরও বক্তব্য দেন:
মিয়া গোলাম পরওয়ার: সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী।
মাওলানা মামুনুল হক: আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
মজিবুর রহমান মঞ্জু: চেয়ারম্যান, এবি পার্টি।
শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন: সাধারণ সম্পাদক, জেএসডি।
বক্তারা সকলেই দ্রুত সংস্কার সম্পন্ন করে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান। তারা সতর্ক করে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে দেশ আবারও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।