রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের প্রতিনিধি হলেও সর্বোপরি তারা জনগণের সেবক। এই বিষয়টি সর্বদা মনে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার (৩ মে) রাতে বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আগত ডিসিদের উদ্দেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ
বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের একটি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "গত বছর ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাইনি। গত বছর যে সরকার ছিল, তারা রাষ্ট্রপতিকে বঞ্চিত করেছে।" তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই প্রথা পুনরায় চালু করায় তিনি ধন্যবাদ জানান।
জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি মাঠ পর্যায়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেন।
বাজার মনিটরিং ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জেলা প্রশাসকদের কয়েকটি বিশেষ বিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন:
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: বাজার মনিটরিং জোরদার করে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখা।
জ্বালানি সংকট: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও সরকারি অর্থের অপচয় রোধ।
অভিযোগ সমাধান: সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা।
প্রযুক্তির ব্যবহার: তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মানসম্মত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
অপরাধ দমন ও দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’
অপতথ্য ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অনলাইন অপরাধ দমনে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, জেলা প্রশাসকরা তাদের মেধা ও দেশপ্রেম দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।