২ মে, ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করছে ইরান,যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করছে ইরান,যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী ও আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির উপকূলবর্তী প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম 'স টিভি'র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির নতুন কৌশল
ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড ক্রপস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই নির্ধারিত উপকূলীয় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই পদক্ষেপ ইরানি জনগণের জন্য কেবল শক্তির প্রতীকই নয়, বরং জাতীয় গর্বের স্মারক হিসেবেও কাজ করবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল?
আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় হরমুজ প্রণালীকে ধরা হয় বিশ্বের অন্যতম ‘চোখ পয়েন্ট’ বা কৌশলগত সংকীর্ণ পথ। আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই রুটটির গুরুত্ব অপরিসীম:

জ্বালানি সরবরাহ: বিশ্বের মোট সমুদ্রজাত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

অর্থনৈতিক প্রভাব: এই রুটে সামান্য অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ভৌগোলিক অবস্থান: ইরানের উপকূলবর্তী এই বিশাল এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে থাকার অর্থ হলো আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব রাখার সক্ষমতা অর্জন করা।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইরানের এই ২ হাজার কিলোমিটার উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ঘোষণাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘকাল ধরে এই প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে। ইরানের এই নতুন পদক্ষেপ সেই উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বার্তা সংস্থা এএফপি-র বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই নিরাপত্তা বলয় তৈরির কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো ইরানের এই একতরফা প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে কীভাবে মোকাবিলা করে।