বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করেছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তামিম ইকবাল আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পদত্যাগ না করেই তিনি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
অ্যাডহক কমিটির লক্ষ্য ও তামিমের অবস্থান
গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তিন মাসের জন্য এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেয়। এই কমিটির মূল লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবির নতুন অভিভাবক নির্বাচন করা। আজ মিরপুর শেরে-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বলেন, "আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। তবে অ্যাডহক কমিটি থেকে পদত্যাগ করার কোনো চিন্তা আমি ব্যক্তিগতভাবে করিনি। গঠনতন্ত্র যা বলবে, আমি ঠিক তা-ই অনুসরণ করব।"
৩ মে আসছে বড় সিদ্ধান্ত
বিসিবি প্রধান তামিম আরও জানান, আগামী রোববার (৩ মে) বোর্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সভাতেই পরবর্তী নির্বাচনের দিনক্ষণ এবং ভোটার তালিকা (কাউন্সিলর) নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তামিমের অধীনে এটিই হতে যাচ্ছে বিসিবির সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক সভা।
'ফেয়ার ইলেকশন'-এর প্রতিশ্রুতি
নির্বাচন নিয়ে অতীতে অনেক বিতর্ক থাকলেও এবার তামিম ইকবালের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, "ফেয়ার ইলেকশন নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। আমি আশা করি আমাদের অধীনে ইনশাআল্লাহ একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন হবে।" প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়ে আসা তামিম মনে করেন, তাঁর বর্তমান অবস্থানে থেকে নির্বাচন করতে কোনো আইনি বাধা নেই, যদি গঠনতন্ত্র অনুমতি দেয়।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে বিসিবির আমূল পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তামিম ইকবালের এই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সেই আশাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এখন ৩ মে-র বোর্ড সভার দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশের ক্রীড়া মহল।