ইরানের তেল রপ্তানি রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নাটকীয় ভবিষ্যৎবাণীকে সরাসরি উপহাস ও বিদ্রূপ করেছে তেহরান। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া তিন দিনের সময়সীমা শেষে কোনো তেলকূপ ‘বিস্ফোরিত’ না হওয়ায় মার্কিন প্রশাসনের কৌশলকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
সামাজিক মাধ্যমে গালিবাফের ব্যঙ্গ
বৃহস্পতিবার এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আজ রাত ২টা ৫১ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি তীক্ষ্ণ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের আলটিমেটামকে বিদ্রূপ করে লেখেন:
“ট্রাম্পের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী তিন দিন পার হলো। কিন্তু ইরানের কোনো তেলকূপ এখনো ‘বিস্ফোরিত’ হয়নি, একটি কূপও ফাটেনি। আমরা চাইলে এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে এখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করতে পারি।”
১২০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম
গালিবাফ দাবি করেন, ওয়াশিংটনের এই অবরোধ ও ভুল নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে বিশ্বকে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, মার্কিন প্রশাসনের এই একগুঁয়ে মানসিকতার কারণে দাম দ্রুতই ১৪০ ডলারে পৌঁছাবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমস্যাটি তাদের তত্ত্বে নয়, বরং তাদের মানসিকতায়।
নেপথ্যে ট্রাম্পের ‘তিন দিন’ তত্ত্ব
এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৬ এপ্রিল। তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, তিন দিনের মধ্যে ইরানের তেলকূপগুলো এক বিশেষ বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরিত হতে শুরু করবে। কিন্তু সেই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের কোনো ক্ষতি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে এখন ট্রাম্পের সেই ‘বিস্ফোরণ তত্ত্ব’ হাস্যরসের খোরাক জোগাচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর চলমান অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন তাদের দমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো বিশ্ব বাজারকেই অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
আমার মন্তব্য:
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দেওয়াটা নতুন কিছু নয়, তবে ট্রাম্পের মতো সুনির্দিষ্ট 'বিস্ফোরণের' কথা বলা এবং তা না ঘটা মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। অন্যদিকে, ইরানের লাইভস্ট্রিম করার চ্যালেঞ্জটি বুঝিয়ে দিচ্ছে তারা এই মুহূর্তে বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে আছে।
আপনার কি মনে হয়? তেলের দাম কি আসলেই ১৪০ ডলারে পৌঁছে যাবে, নাকি ট্রাম্প প্রশাসন অন্য কোনো নতুন পদক্ষেপ নেবে?