ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে দেশটিতে ‘স্বল্পমেয়াদি অথচ শক্তিশালী’ একগুচ্ছ সামরিক হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর বরাতে বিবিসি আজ বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
পরিকল্পনায় যা আছে
সেন্টকমের তৈরি এই পরিকল্পনাটি মূলত একটি ‘হাই-ইমপ্যাক্ট’ বা উচ্চমানের প্রভাবশালী বিকল্প হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পেশ করা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা একে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের চেয়ে কিছুটা সীমিত কিন্তু অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক বলে অভিহিত করছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা বা পারমাণবিক অবকাঠামোতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী আঘাত হানা, যাতে তেহরানকে বড় কোনো সংঘাতের আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া যায়।
ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক অস্ত্র’ বনাম সামরিক পরিকল্পনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনী এই বিকল্প প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। বরং তিনি ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধ এবং কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকেই বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন। ট্রাম্প জনসমক্ষে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর নেওয়া অর্থনৈতিক চাপ যেকোনো ‘বোমার চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর’।
উত্তেজনার মূলে হরমুজ প্রণালি
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেল চলাচলের প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার হুমকিই ওয়াশিংটনকে এমন হার্ডলাইনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এখন সামরিক প্রস্তুতির পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
আঞ্চলিক প্রভাবের শঙ্কা
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই পরিকল্পনাকে ‘সীমিত’ বললেও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞরা একে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। তাঁদের মতে, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের প্রত্যক্ষ হামলা পুরো অঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত জেনারেলদের দেওয়া এই সামরিক পরিকল্পনায় সায় দেবেন, নাকি তাঁর প্রিয় ‘আর্থিক বোমা’র ওপরই আস্থা রাখবেন।