ওয়াশিংটন ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যয়ের হিসাব প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আনল পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তা জুলস ‘জেই’ হার্স্ট জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন কোষাগার থেকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য দেন।
ব্যয়ের খাতসমূহ
পেন্টাগনের তথ্যমতে, এই বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহে। এছাড়া যুদ্ধের ময়দানে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামের সংস্কার এবং নতুন সরঞ্জাম মোতায়েনের পেছনেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে।
বাজেটের টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক বিতর্ক
পেন্টাগনের এই হিসাব এমন এক সময়ে সামনে এল যখন মার্কিন কংগ্রেসে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে বিতর্ক চলছে। যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট ব্যয় এতদিন অস্পষ্ট থাকায় আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
হাউস রিপ্রেজেন্টেটিভ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ পেন্টাগনের এই তথ্যের স্বচ্ছতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "আমরা অনেক দিন ধরে এই সংখ্যাটি জানতে চাইছিলাম। অবশেষে একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেল।"
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ২৫ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যয় মার্কিন অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট পাস করার ক্ষেত্রে পেন্টাগনের এই ব্যয়ের হিসাবটি অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন ও পেন্টাগন ব্রিফিং।