২৫ এপ্রিল, ২০২৬

নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক ছাত্রীকে (১৯) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণের অভিযোগে কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তাঁকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রাইভেট পড়ার সময় শিক্ষক দেলোয়ারের সাথে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী:

ব্ল্যাকমেইল: ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ দেলোয়ার হোসেন ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক আপত্তিকর স্বীকারোক্তি লিখিয়ে ভিডিও ধারণ করেন।

নির্যাতন: ওই ভিডিও ও কাগজ দেখিয়ে ছাত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ করা হয়। এই কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে অপর শিক্ষক শংকর চন্দ্র মজুমদারের বিরুদ্ধে।

সংসার ভাঙন: গত ডিসেম্বরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বিয়ে হলে দেলোয়ার তাঁর স্বামীর কাছে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেন এবং ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার চালান। এর ফলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছাত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

বিবাহ বিচ্ছেদের পরও অভিযুক্তরা ওই ছাত্রীকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। গত ১৩ এপ্রিল অনার্স পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় পথে পুনরায় কুপ্রস্তাব ও ভিডিও ভাইরালের হুমকি দেওয়া হলে ভুক্তভোগী ছাত্রী আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে গত ২০ এপ্রিল বেগমগঞ্জ থানায় দুই শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়।

গত শুক্রবার রাতে পশ্চিম মির্জা নগর গ্রাম থেকে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হলেন:  শংকর চন্দ্র মজুমদার (৪৮)। তিনি তক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষককে ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।