নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির চাল আত্মসাতের ঘটনার এক অনন্য সমাধান হয়েছে। তদন্তে চাল চুরির সত্যতা পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক ২৪৭ জন হতদরিদ্র নারীকে সেই চালের দ্বিগুণ বাজার মূল্য পরিশোধ করেছেন অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সূত্র মতে, গত মার্চ মাসে ২৪৭ জন সুবিধাভোগী নারীর জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করা হলেও তা বিতরণ না করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হলে চাল আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
দ্বিগুণ জরিমানা ও অর্থ বিতরণ
ভিডব্লিউবি কর্মসূচি নির্দেশিকা ২০১১-এর বিধান অনুযায়ী, আত্মসাৎকৃত মালামালের সমপরিমাণ নয় বরং দ্বিগুণ মূল্য আদায়ের নিয়ম রয়েছে। সেই হিসেবে প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৫৭,০৭৩.৫০৬ টাকা ধরে মোট ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯৭৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ বিতরণ করা হয়। ফলে:
সুবিধাভোগীর সংখ্যা: ২৪৭ জন নারী।
জনপ্রতি প্রাপ্ত অর্থ: ৩,৪২৫ টাকা।
অতিরিক্ত পাওনা: চালের বদলে নগদ টাকা এবং দ্বিগুণ জরিমানা পাওয়ায় সুবিধাভোগীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কর্তৃপক্ষ ও চেয়ারম্যানের বক্তব্য
অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুমি খাতুন। ইউএনও নিশ্চিত করেন যে, সরকারি বিধি মেনেই এই পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন:
"একটি মহল আমাকে ভুল বুঝিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি ২৪৭ জন হতদরিদ্রের চালের দ্বিগুণ অর্থ এবং তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিয়েছি।"
জনপ্রতিনিধিদের অনিয়মের বিপরীতে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান এবং দরিদ্রদের পাওনা আদায়ে এই পদক্ষেপ সিংড়ায় বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।