কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ এক দশক পর প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমান (৫২) সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। গতকাল মঙ্গলবার পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে।
আজ বুধবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মমিনুল হক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা তদন্ত সংস্থা পিবিআই জানায়, ২০১৬ সালে হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএনএ নমুনা মেলানোর জন্য যে তিনজনের নাম আদালতে জমা দিয়েছিলেন, হাফিজুর তাদের মধ্যে অন্যতম। পিবিআই পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার ডিএনএ পরীক্ষার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
আদালতে তনুর পরিবার রিমান্ড শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও তাঁর ভাই। দীর্ঘ ১০ বছর পর মামলায় প্রথম কোনো গ্রেপ্তার দেখে তনুর পরিবার কিছুটা আশার আলো দেখছে। তবে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, "আমরা শুরু থেকেই সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক জাহিদের কথা বলে আসছি। আজ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আমরা চাই প্রকৃত খুনিরা যেন এবার চিহ্নিত হয়।"
স্মরণে তনু হত্যাকাণ্ড ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পাশের ঝোপ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের মুখে তদন্তভার যায় সিআইডির কাছে। ২০১৭ সালে তনুর পোশাকে তিন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান তদন্ত সংস্থা পিবিআই সেই ডিএনএ নমুনার ভিত্তিতেই পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে।
পর্যবেক্ষণ তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানের ডিএনএ প্রোফাইল যদি সিআইডির পাওয়া নমুনার সাথে মিলে যায়, তবে ঝুলে থাকা এই রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের জট অবশেষে খুলে যেতে পারে।