সংসদ সদস্যরা প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের যাতায়াত ভাতা পাওয়ার পরও তাঁদের জন্য সরকারি গাড়ির সুবিধা চেয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই সংসদ সদস্যের দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তবে বিষয়টিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের চিন্তা’ ও ‘অনৈতিক’ বলে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
গতকাল মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ এই দাবি তোলেন। এর একদিন পর আজ বুধবার সংসদ লবিতে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সমালোচনার মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি ব্যক্তিগত মালিকানায় কোনো ‘শুল্কমুক্ত’ গাড়ি চাননি, বরং ডিসি-ইউএনওদের মতো সরকারি ডিউটির জন্য গাড়ি চেয়েছেন।
সুবিধা বনাম নৈতিকতার প্রশ্ন সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত আইন (১৯৭৩) অনুযায়ী, একজন এমপি প্রতি মাসে বেতন ছাড়াও যাতায়াত ভাতা হিসেবে ৭০ হাজার টাকা পান। এছাড়া নির্বাচনী এলাকা ভাতা, ভ্রমণ ভাতা ও টিএ-ডিএ মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ রাষ্ট্র খরচ করে।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, “মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পাওয়ার পর পুনরায় গাড়ি চাওয়া কোনোভাবেই নৈতিক হতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য তাঁরা বুঝতে চাইছেন না কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।”
জামায়াতের অবস্থান নিয়ে আলোচনা নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তাদের কোনো এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট নেবেন না। কিন্তু জামায়াত সমর্থিত জোটের এমপি হাসনাতের এই গাড়ি চাওয়ার বিষয়ে আমিরের সমর্থনকে ‘দ্বিমুখী অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যদিও শফিকুর রহমান বিষয়টিকে ‘ছোটদের আবদার’ বলে হালকা করার চেষ্টা করেছেন।
উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির শঙ্কা গাড়ির দাবির পাশাপাশি উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের বসার জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দের আদেশ জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও টিআইবি মনে করছে, এতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরও দুর্বল হবে। এমপিদের প্রভাব বাড়লে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়দের কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এমপিরা যা পান * মাসিক পারিশ্রমিক: ৫৫,০০০ টাকা
যাতায়াত ভাতা: ৭০,০০০ টাকা
স্বেচ্ছাধীন তহবিল: বছরে ৫ লাখ টাকা
এছাড়া আপ্যায়ন, টেলিফোন ও অফিস রক্ষণাবেক্ষণসহ আরও ডজনখানেক ভাতা।
সরকারি সুযোগ-সুবিধার এই বিশাল তালিকার পরও নতুন করে গাড়ির দাবি সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, জনগণের সেবক হতে এসে কেন সরকারি কর্মকর্তাদের মতো বিলাসিতার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে?