২১ এপ্রিল, ২০২৬

শিকলবন্দি জীবনেও স্বপ্নপূরণের লড়াই: কারাগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে রাজিন

শিকলবন্দি জীবনেও স্বপ্নপূরণের লড়াই: কারাগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে রাজিন

জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায়ে দাঁড়িয়েও শিক্ষার আলোয় নিজেকে রাঙাতে চাইছে কিশোর মাহবুব এলাহী রাজিন (১৫)। একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে বন্দি থাকলেও মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। নোয়াখালী জেলা কারাগারের বিশেষ কক্ষে বসে তার এই পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় নোয়ান্নই উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। একটি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের পর গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছিল। তবে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।

রাজিনের শিক্ষা জীবনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

বিশেষ কেন্দ্র: রাজিনের নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল নোয়াখালী জিলা স্কুল। কিন্তু নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতার কারণে তাকে জিলা স্কুল কেন্দ্রের অধীনেই কারাগারের অভ্যন্তরে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেল সুপারের বক্তব্য: নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আ. বারেক জানান, রাজিন মূলত গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে থাকে। শুধুমাত্র পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় নোয়াখালী কারাগারে আনা হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও একই নিয়মে নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে রাজিনের এই অনন্য পরীক্ষা জীবন শুরু হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছর নোয়াখালী জেলায় মোট ৭৫টি কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ৫০১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রাজিনের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিরল।

কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে পুলিশের প্রহরায় বসে দেওয়া এই পরীক্ষা রাজিনের ভবিষ্যৎ জীবনে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি একজন কিশোরের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়।