২১ এপ্রিল, ২০২৬

চিলমারীতে শিশু আয়শা হত্যা: ৪ দিনেও মেলেনি রহস্যের জট, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

চিলমারীতে শিশু আয়শা হত্যা: ৪ দিনেও মেলেনি রহস্যের জট, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের অবুঝ শিশু আয়শাকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার চার দিন অতিবাহিত হলেও এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে তদন্ত। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা খুনিকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে দীর্ঘ সময়েও খুনি ধরা না পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পৈশাচিক সেই হত্যাকাণ্ড
গত ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) সকালে উপজেলার মাচাবান্ধা গ্রামের শাহাপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেনের শিশুকন্যা আয়শা (২) নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। দিনভর খোঁজাখুঁজির পর ওইদিন রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা জমিতে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারকালে দেখা যায়, ঘাতকরা শিশুটির ডান চোখ উপড়ে ফেলেছে—এমন লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন এলাকাবাসী।

তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতা
হত্যাকাণ্ডের পর চিলমারী মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং ০৪/২০২৬) দায়ের করেন।

জিজ্ঞাসাবাদ: সন্দেহের ভিত্তিতে প্রতিবেশী সামিউল ইসলাম দুখু নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য: চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে খুনিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিচারের দাবিতে আহাজারি
নিহত আয়শার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। তিনি কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার দুই বছরের বাচ্চা কার কী ক্ষতি করেছিল যে তাকে এভাবে চোখ উপড়ে মারতে হলো?" উপস্থিত এলাকাবাসী অবিলম্বে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, ছোট্ট আয়শার খুনিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কতটা দ্রুত সফল হয়।