দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য বিশেষায়িত কক্ষ বা বসার জায়গা করে দিচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। বসার জায়গার সংকট নিরসনের এই খবরকে বিরোধী দল স্বাগত জানালেও, একইসাথে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি গাড়ির দাবি তুলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক তরুণ সংসদ সদস্য।
‘বসার জায়গা’ এখন ‘পরিদর্শন কক্ষ’
সংসদ সদস্যদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, নিজ এলাকায় উপজেলা পরিষদে গেলে তাদের বসার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা থাকে না। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরামর্শে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে।
সুযোগ-সুবিধা: প্রতিটি উপজেলা পরিষদের দোতলায় অ্যাটাচ বাথরুম ও আসবাবপত্রসহ একটি সুসজ্জিত কক্ষ প্রস্তুত করা হবে।
নামকরণ: আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এটিকে ‘এমপি অফিস’ না বলে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বলা হবে।
একাধিক অফিস: কোনো সংসদীয় আসনে একাধিক উপজেলা থাকলে, প্রতিটিতেই এই সুবিধা পাবেন সংশ্লিষ্ট এমপি।
গাড়ি নিয়ে নতুন আবদার
সরকারের এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ফ্লোর নেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বসার জায়গার সমাধান হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সব সংসদ সদস্যের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থার দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের গাড়ি থাকলেও এমপিদের যাতায়াতে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাঁর এই দাবিতে সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্যকে টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিতে দেখা যায়।
সরকারের অবস্থান ও আশ্বাস
গাড়ির দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এমপিদের যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে একটি বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাবেন। এর আগে তিনি সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ববর্তী অনুশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপজেলা পরিষদে বসার স্থায়ী জায়গা পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সংসদ সদস্যদের সমন্বয় আরও বাড়বে। তবে সরকারি গাড়ির দাবির বিষয়টি বাজেট ও বর্তমান সরকারি নীতির ওপর নির্ভর করছে।