জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য যাতায়াতের সুব্যবস্থা বা গাড়ির দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে এই দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অনুশাসনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পুরো বিষয়টি নিয়ে সংসদে এক হাস্যরসাত্মক ও প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
‘ইউএনও-চেয়ারম্যানের গাড়ি আছে, আমাদের ভাড়া করতে হয়’
মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, "আমরা লজ্জায় কোথাও বলতে পারি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও এমপিদের ভাড়ায় গাড়ি চালাতে হয়। মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হতো, তবে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।"
উল্লেখ্য, এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘোষণা দেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি উপজেলা কমপ্লেক্সের দোতলায় এমপিদের জন্য একটি করে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেই হাসনাত আবদুল্লাহ গাড়ির দাবিটি উত্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব
হাসনাত আবদুল্লাহর দাবির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই দুটি অনুশাসন দিয়েছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো—জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা কোনো বাড়তি সুবিধা নেবেন না এবং শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধাও কমানো হচ্ছে। তবে এমপিদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে সরকারি ও বিরোধী দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘বিহিত-ব্যবস্থা’ করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।
শফিকুর রহমানের সরস মন্তব্য
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘না’ সূচক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, "একটা কথা আছে যে ছোটদের কখনো ‘না’ বলতে নাই। তাদের আবদারে সব সময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলে ফেলেছে, সাথে সাথে না বললে আমি বেশি খুশি হইতাম।" তার এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে।
শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার অঙ্গীকার
আলোচনার এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী স্পষ্ট করেন যে, সরকারি দলের মতো বিরোধী দলের সদস্যরাও অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোনো শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না।
পুরো আলোচনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে গিয়ে বিকল্প কোনো উপায়ে সংসদ সদস্যদের যাতায়াতের সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে বর্তমান সংসদ।