ইরানের সাথে বিদ্যমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফায় আলোচনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদলটির ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে জেডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। উল্লেখ্য, কুশনার ও উইটকফ এর আগের দফার আলোচনাতেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
তেহরানের অনড় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসার ব্যাপারে তৎপর হলেও ইরান এখনো তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মার্কিন অবরোধ (Sanctions) বহাল থাকা অবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তেহরানের নেই। বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, "এই মুহূর্তে পরবর্তী দফার আলোচনার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।"
পুরানো জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকটি টানা ২১ ঘণ্টা চললেও কোনো সুনির্দিষ্ট শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল।
ইসলামাবাদে এই সম্ভাব্য বৈঠকটি সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইরানের সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।