১৭ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির কড়া নজরদারি: অনুমতি ছাড়া পার হতে পারবে না কোনো জাহাজ

হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির কড়া নজরদারি: অনুমতি ছাড়া পার হতে পারবে না কোনো জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন এবং কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালি অতিক্রম করতে হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক।

সামরিক বনাম বাণিজ্যিক অবস্থান
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে আইআরজিসি এই জলপথে কঠোর নজরদারি চালাবে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্য এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মটি মূলত সামরিক জাহাজের ক্ষেত্রে বেশি কঠোর হবে। তিনি বলেন:

"মার্কিন পতাকাধারী জাহাজসহ সকল বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপারের অনুমতি পাবে। তবে কোনো দেশের নৌবাহিনীর জাহাজকে অনুমতি ছাড়া এই জলসীমায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।"

যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, লেবাননে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমানে প্রণালিটি বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আঞ্চলিক শান্তি বজায় থাকলে ইরান এই নমনীয়তা বজায় রাখবে।

ট্রাম্পের অনড় অবস্থান
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকা জরুরি। তবে তিনি ইরানের ওপর চাপের কৌশল থেকে সরে আসেননি। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের সাথে নতুন কোনো কার্যকর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।

গুরুত্ব কেন?
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে আইআরজিসির এই 'অনুমতি' নেওয়ার ঘোষণা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।