বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কভিত্তিক সাময়িকী টাইম গতকাল বুধবার ২০২৬ সালের জন্য এই তালিকা প্রকাশ করেছে। ‘লিডারস’ বা নেতৃত্ব বিভাগে তারেক রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ তালিকায় তারেক রহমানের পাশাপাশি স্থান পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ।
‘জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে’
তারেক রহমানের প্রোফাইলে টাইম ম্যাগাজিন লিখেছে, মাত্র কয়েক মাস আগেও দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর তিনি বিরোধী আন্দোলনের পর্যায় থেকে জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে চলে আসেন। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দলের বিপুল বিজয় সেই যাত্রাকে পূর্ণতা দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান তাঁর মা খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। উল্লেখ্য, তারেক রহমান দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় খালেদা জিয়া মারা যান।
ঐক্য ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ
টাইম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। টাইম উল্লেখ করেছে যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন মোকাবিলা করা তাঁর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে টাইম সতর্ক করে বলেছে, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগগুলো (যা বর্তমানে আদালত কর্তৃক খারিজ হয়েছে) তাঁর রাজনৈতিক পথকে কণ্টকাকীর্ণ করতে পারে। সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন,
"আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে—যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।"
তারেক রহমানের এই স্বীকৃতিকে তাঁর সমর্থকরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।