ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক উসকে দিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির বর্তমানে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইরানে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেনাপ্রধানের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘বিশেষ বার্তা’ পৌঁছে দেওয়া।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে পৌঁছানোর পর আসিম মুনির ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঝুলে থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্র তৈরি করা।
আলোচনার কেন্দ্রে যেসব বিষয়
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই সফরটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এবারের আলোচনায় প্রধানত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে:
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা: ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনা শুরুর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা শর্তাবলী তেহরানকে জানানো।
জব্দ করা সম্পদ: ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো বিদেশে আটকে থাকা তাদের বিশাল অংকের অর্থ বা সম্পদ অবমুক্ত করা। এই বিষয়ে তেহরান কোনো আপস করতে রাজি নয়।
আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি: লেবানন ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। ইরানের দাবি, লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
ঐতিহাসিকভাবেই পাকিস্তান ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করে। তবে এবার সেনাপ্রধানের সরাসরি অংশগ্রহণ বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, যুদ্ধবিরতি এবং পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিরসনে একটি ‘উপযুক্ত সময়’ নির্ধারণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ইরানি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দ্বিতীয় দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা নমনীয় হয়, তার ওপরই সব নির্ভর করছে।
এখন দেখার বিষয়, আসিম মুনিরের এই ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ বা নেপথ্য কূটনীতি মধ্যপ্রাচ্যের গুমোট পরিস্থিতিতে কোনো আশার আলো দেখাতে পারে কি না।