১৩ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ঢুকতে গিয়ে ব্যর্থ দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে ঢুকতে গিয়ে ব্যর্থ দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের

পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কঠোর অবস্থানের মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার দুটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই ঘটনাকে একটি ‘প্রচারমূলক সামরিক অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান।

টার্গেটে ছিল মার্কিন ডেস্ট্রয়ার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইউএসএস মাইকেল মার্ফি’ ও ‘ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন’ নামের আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার দুটি প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইরানি বাহিনী তাদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের মাধ্যমে জাহাজ দুটিকে লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) করে এবং নজরদারির জন্য ড্রোন মোতায়েন করে।

একটি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, মার্কিন জাহাজ দুটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট দূরে’ ছিল। ইরান তাদের পথ পরিবর্তনের জন্য ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিলে জাহাজগুলো দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

গোপন অভিযান ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার
প্রেস টিভির দাবি, মার্কিন নৌবাহিনী রাডারে শনাক্ত হওয়া এড়াতে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল। তবে ইরানের রাডার ও উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা পুরো সময় জাহাজগুলোকে ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি তাদের পূর্ণ নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

আলোচনা চলাকালেই উত্তেজনা
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হলো যখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টি করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক মহড়া চালানোর চেষ্টা করেছিল। তবে মার্কিন জাহাজগুলোর পিছু হটার ভিডিও ইরান প্রকাশ করতে যাচ্ছে বলেও আইআরজিসি সূত্রে জানা গেছে।