১৩ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের: ‘বিপর্যয়কর’ বলছে মস্কো

হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের: ‘বিপর্যয়কর’ বলছে মস্কো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার আকস্মিক ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, ওয়াশিংটনের এমন একতরফা পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ প্রমাণিত হবে।

আজ সোমবার রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আদেশের অনেকগুলো দিক এখনো অস্পষ্ট। তবে আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের বাধানিষেধ বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।”

অবরোধের সময়সূচি ও প্রভাব মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘোষণা অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে এই অবরোধ কার্যকর শুরু হবে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো থেকে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ সফল হলে প্রতিদিন বিশ্ববাজারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে অস্থিতিশীল জ্বালানি বাজারে তেলের জোগান কমে গেলে দাম নতুন করে আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তড়িঘড়ি করে এলাকা ছাড়ছে ট্যাঙ্কার শিপিং ডেটা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার এবং এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সময়সীমা শুরু হওয়ার আগেই অন্তত দুটি বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি এলাকা ত্যাগ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ বা আটকা পড়ার ঝুঁকি এড়াতেই জাহাজগুলো দ্রুত ওমান উপসাগরের দিকে রওনা হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর এলাকায় অবরোধের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার পথ প্রশস্ত করতে পারে। তেহরান এই জলপথকে তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখে থাকে, ফলে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান কী ভূমিকা নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।