বড় আকারের খামে ভরে দুই শিক্ষকের নামে কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠানো খাম দুটি ডাক পিয়ন এসে কলেজে দিয়ে যান। রবিার সকালে খাম খোলার পর কাফনের কাপড় দেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ কাফনের কাপড় উদ্ধার করেছে।
গুরুদাসপুর পৌর সদরের রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুস সামাদ ও একই কলেজের মনোবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের নামে খাম দুটি আসে।
কলেজের গিভর্নিং বডির সভাপতি ওমর আলী খামে কাফনের কাপড় আসার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি সভাপতি হওয়ার পর থেকে নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। ২০২২ সালের পর থেকে কলেজটিতে ক্যাশ বই ব্যবহার করা হয়নি। রয়েছে নানা অনিয়ম। তিনি একটি অডিট কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন। এসব কাজে ক্ষিপ্ত হয়ে একটা পক্ষ কলেজের দুই শিক্ষককে কাফনের কাপড় পাঠাতে পারেন।
কলেজের অফিস সহকারী দিল রুবা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে পোস্ট অফিসের পিয়ন এসে বড় সাইজের দুটি খাম দিয়ে যান। প্রাপক উপস্থিত না থাকায় জরুরী কাগজপত্র ভেবে দুটি খাম অফিসের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়। প্রভাষক আনোয়ার হোসেনের নামে আসা খামের ওপর প্রেরকের ঠিকানা খেলা ছিল ‘মো. লিখন হোসেন, খরখরিয়া, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ ও প্রভাষক আব্দুস সামাদের নামে আসা খামের ওপর প্রেরকের ঠিকানা লেখা ছিল ‘জনি আহম্মেদ, ভাদাস, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ। দুটি খামই পোস্ট অফিসে রেজিষ্ট্রি করা হয়েছিল ৬ এপ্রিল। এ-৪ আকারের প্রতিটি খামের ওজন লেখা হয়েছে ৮৪০ গ্রাম।
প্রভাষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার খামটি এলেও কলেজের ফোন পেয়ে রবিবার সকালেই খামটি তিনি গ্রহণ করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে ভেবে খামটি খুলেই তিনি আতকে উঠেন। দেখেন কাফনের কাপড়ের চার খণ্ডের পুড়ো সেট তাকে পাঠানো হয়েছে। প্রেরককে তিনি চেনেন না। কাফনের কাপড় পেয়ে তিনি আতংকিত ও ভীত হয়ে পড়েছেন।
সহকারী অধ্যপক আব্দুস সামাদ বলেন, তিনিও খামটি খুলে কাফনের কাপড় দেখতে পান। তবে প্রেরককে তিনি চেনেন না। কাউকে সন্দেহও করতে পারছেন না। কাফনের কাপড় পাওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কীত। বিষয়টি নিয়ে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতি পদ নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম মোজাম্মেল হকের পুত্র আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে কলেজটির সহকারি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের স্বজন ওমর আলীকে সবশেষ ৩০ মার্চ সভাপতি হিসেবে মনোয়ন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। তাছাড়া কলেজের কোনো কেনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহুর্তে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।
অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন বলেন, কলেজের শিক্ষকের নামে আসা খামের ভেতর কাফনের কাপড় আসায় তিনি শঙ্কিত। বিষয়টি নিয়ে তারা অভ্যন্তরিণভাবে সভা আয়োজন করবেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, কাফনের কাপড় আসার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। পুলিশ কাফনের কাপড়গুলো উদ্ধার করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।