দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই সরাসরি আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের ‘বদল’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকের প্রথম দুই ঘণ্টা অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, ওমান বা কাতারের মতো এখানেও দুই দেশ ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ বা পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নেবে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরাসরি টেবিলে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার প্রথম পর্ব শেষে বর্তমানে নৈশভোজের বিরতি চলছে এবং কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনার কেন্দ্রে লেবানন ও অর্থনীতি
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বর্তমান লেবানন পরিস্থিতি। সূত্রমতে, একটি অলিখিত সমঝোতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে যেখানে ইসরায়েলি অভিযান কেবল দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে বৈরুতে সব ধরনের বড় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে পারে তাদের জব্দ করা বিশাল অংকের অর্থ ফেরত পাওয়া। ইরানের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দেশটির স্থবির হয়ে থাকা সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় অবস্থান দেখাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মত
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরের উত্তেজনার পর এটিই প্রথম কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। তবে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "রুদ্ধদ্বার বৈঠক থেকে আসা তথ্যগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা না গেলেও পরিবেশ যে হৃদ্যতাপূর্ণ, তা নিশ্চিত।"
ইসলামাবাদে এই কূটনৈতিক তৎপরতা সফল হলে কেবল ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা প্রশমিত হওয়ার নতুন পথ উন্মোচিত হতে পারে। এখন বিশ্ববাসীর নজর দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকে।