১০ এপ্রিল, ২০২৬

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও অর্থছাড় ছাড়া আলোচনা নয়: ইরান

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও অর্থছাড় ছাড়া আলোচনা নয়: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনা শুরুর আগে দুটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বাঘের গালিবাফ এই কড়া অবস্থানের কথা জানান।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার বিষয়ে সমঝোতা হলেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, ‘আলোচনা শুরু হওয়ার আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদের ছাড় দিতে হবে। এই দুটি শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি।’

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান এই অবস্থান নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প যখন ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরান আলোচনার আগেই নিজেদের পাওনা বুঝে নিতে চাইছে। বিশেষ করে লেবানন ইস্যুকে সামনে এনে ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ও মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ হয়ে আছে। এই অর্থ ফেরত পাওয়া ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গালিবাফের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কেবল হুমকির মুখে ইরান আলোচনার টেবিলে বসবে না, বরং তারা নিজেদের স্বার্থ আদায়ের বিষয়েও অনড়।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে এবং সেজন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের সেই ‘যুদ্ধংদেহী’ বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই পাল্টা শর্তের কথা জানানো হলো।