৯ এপ্রিল, ২০২৬

সাজা শুনে এজলাসে চিৎকার দিয়ে পুলিশ সদস্য বললেন ‘আমি নির্দোষ, হুকুম পালন করেছি মাত্র’

সাজা শুনে এজলাসে চিৎকার দিয়ে পুলিশ সদস্য বললেন ‘আমি নির্দোষ, হুকুম পালন করেছি মাত্র’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর এজলাস কক্ষেই চিৎকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন। দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি দাবি করেন, তিনি কেবল সরকারের আদেশ পালন করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ে দুই সাবেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবনসহ মোট ২৮ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি হলেন সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এজলাস কক্ষে উত্তেজনা
রায় ঘোষণা শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় সাবেক এএসআই মো. আমির হোসেন (৩৫) উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমি নির্দোষ, এই রায় মানি না, মানব না। আমি সরকারি চাকরি করেছি। আমি শুধু সরকারের হুকুম পালন করেছি। আমি সরকারের হুকুমের গোলাম। জয় বাংলা।’

এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে এজলাস চত্বরে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি সুজন চন্দ্র রায়কে এ সময় নীরব থাকতে দেখা যায়।

আপিলের প্রস্তুতি আসামিপক্ষের
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র সাজার পরিমাণটুকু শুনতে পেয়েছি। পরিপূর্ণ রায়ের কপি পাওয়ার পর সেটি বিচার-বিশ্লেষণ করে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

আইনজীবী আরও দাবি করেন, এই রায়ে তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা আপিল বিভাগে আবেদন করব এবং আশা করছি সেখান থেকে আসামিরা খালাস পাবেন।’

উল্লেখ্য, গত বছর ১৬ জুলাই রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা সাঈদকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনাকে অত্যন্ত বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করেছেন।