জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আসামিপক্ষ। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন। তিনি দাবি করেছেন, এই মামলায় গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ে সাবেক দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবনসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমের কাছে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
আইনজীবীর যুক্তি: ‘গেঞ্জিতে ছিল না গুলির ছিদ্র’
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেন, মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে গুলির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ মেলেনি। তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির চিহ্ন বা ছিদ্র পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর মরদেহেও কোনো ধরনের গর্ত বা ক্ষতের চিহ্ন ছিল না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নিহতের দেহে কোনো এক্স-রে বা অন্য কোনো বিশেষ পরীক্ষা করা হয়নি, যার মাধ্যমে শরীরে গুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়।
কার্টিজ জব্দ না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন
আইনজীবী দোলন প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করে গুলি করার অভিযোগ আনা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। আমরা আদালতে একাধিক পয়েন্টে এ বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি।’
তিনি জানান, আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে লিখিত যুক্তি আদালতে দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁদের মক্কেলরা প্রত্যাশিত খালাস পাননি।
আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি
আসামিপক্ষের এই আইনজীবী জানান, তাঁরা এখন ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপির অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, ‘রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর আমরা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করব। এরপর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আমরা আশা করি, আপিল শুনানির মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।’
উল্লেখ্য, গত বছর ১৬ জুলাই রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সেই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও চিত্র দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। আজকের রায়ে আদালত একে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে সাজা প্রদান করেছেন।