ঢাকার দোহার থানার আলোচিত প্রবাসী মলি আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. ইসমাইল হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। দীর্ঘ পলাতক থাকার পর গত মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালীর চরজব্বর উপজেলার হারিছ চৌধুরীর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, একটি হোটেলের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় তাঁকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত।
পরিচয় থেকে পরিণয়, অতঃপর বিচ্ছেদ
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মলি আক্তার ও ইসমাইল হোসেনের পরিচয় হয় সৌদি আরবে থাকাকালীন। সেখানে থাকা অবস্থায় সাত বছর আগে তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই মলির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন ইসমাইল। সহ্য করতে না পেরে প্রায় এক বছর আগে ইসমাইলকে তালাক দিয়ে কুয়েতে চলে যান মলি।
যেভাবে খুন হন মলি
সম্প্রতি মলি কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন। এরপর থেকে ইসমাইল বারবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। গত ১৪ মার্চ ভোরে একটি ফোনকল পেয়ে মলি ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই বাড়ির পেছনে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর বাবা। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মলিকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় মলির বাবা বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাবের বক্তব্য
র্যাব-১১-এর সিপিপি-৩ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইসমাইল নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন এবং মলি আক্তার হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। মূলত তালাকের জেরে ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেনকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।