৯ এপ্রিল, ২০২৬

গ্রাহকের সোয়া তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ব্যাংক ব্যবস্থাপকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

গ্রাহকের সোয়া তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ব্যাংক ব্যবস্থাপকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের সোয়া তিন কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের দায়ে সোনাইমুড়ীর রুপালী ব্যাংক পিএলসির সাবেক এক ব্যবস্থাপককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম মো. বেলায়েত হোসেন। তিনি সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ গ্রামের আনছার আলী বেপারী বাড়ির মৃত আব্দুর রবের ছেলে। বেলায়েত রুপালী ব্যাংক সোনাইমুড়ী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

যেভাবে চলত জালিয়াতি
আদালত সূত্রে জানা যায়, বেলায়েত হোসেন ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সোনাইমুড়ী শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫৬ জন গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করেন। এভাবে তিনি নগদ ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯৪ টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়।

আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ
মামলাটি তদন্ত করে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. হোসাইন শরীফ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত তিনটি ধারায় আসামিকে মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আত্মসাৎকৃত সমপরিমাণ টাকা অর্থাৎ ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯৪ টাকা জরিমানা করা হয়।

নোয়াখালী দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় তাঁকে এই সাজা দিয়েছেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে।’

দুদক কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ গ্রাহকের আমানত রক্ষা করা যেখানে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দায়িত্ব, সেখানে এমন জালিয়াতি ব্যাংকিং খাতের জন্য চরম নেতিবাচক। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।