হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে নোয়াখালীর রেলপথে ব্যাপক বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় ঢাকার সঙ্গে নোয়াখালীর ট্রেন যোগাযোগ সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলা শহর মাইজদীসহ বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়। ঝড়ের তাণ্ডবে রেললাইনের একাধিক স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
পথে পথে বাধা, ভোগান্তিতে যাত্রী
রেলওয়ে সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার সকালে নোয়াখালী স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি পথে বাধার সম্মুখীন হয়। লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকায় চালক ট্রেনটি ধীরগতিতে চালাতে বাধ্য হন। একাধিক স্থানে গাছ সরিয়ে ট্রেনটি মাইজদী কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালেও সেখানে দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে থাকে। পরে আংশিকভাবে লাইন পরিষ্কার করা হলে ট্রেনটি চৌমুহনীর দিকে রওনা দেয়।
ট্রেনটির চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঝড়ে লাইনের ওপর অনেক বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো সরিয়ে সাবধানে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দেরি হয়ে গেছে।’
বিকল্প পথে যাত্রা
ট্রেন চলাচলে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় অনেক যাত্রী স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি ছিল চরমে। উপায় না দেখে অনেক যাত্রী স্টেশন ছেড়ে বিকল্প হিসেবে বাসে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
উদ্ধার কাজ চলছে
নোয়াখালী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঝড়ের পর থেকেই রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাইন পরিষ্কার করার কাজে নিয়োজিত আছেন। লাইনের ওপর থেকে বড় বড় গাছগুলো অপসারণ করতে কিছুটা সময় লাগছে। কাজ শেষ হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।