নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মোটরসাইকেলের তেল আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়া দুই বন্ধুর শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হলো না। ট্রাকচাপায় বন্ধু অন্তরের মৃত্যুর চারদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মো. ইব্রাহীম ইমনও (১৯)।
গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইমনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২ এপ্রিল রাতে দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েত ভূঁঞা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তেল সংকটে পথ আগলেছিল মৃত্যু
নিহত ইমন উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিন হাজীর বাড়ির রেজাউল হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বন্ধু নিহত অন্তর চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজার সংলগ্ন মৃধাবাড়ির একরামুল হকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অন্তর ও ইমন মোটরসাইকেলে তেল সংগ্রহ করতে ফেনীর একটি পাম্পের উদ্দেশে রওনা হন। ফেরার পথে দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েতভূঞা এলাকায় একটি অজ্ঞাত যান তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তরের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল।
পরিবারে শোকের মাতম
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) এনায়েত উল্যাহ জানান, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ইমন ছিলেন সবার ছোট। পরিবারের হাল ধরতে কিছুদিন পরই তাঁর প্রবাসে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনাই সব স্বপ্ন চুরমার করে দিল। ইমনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাহাদুরপুর গ্রামের পরিবেশ।
পুলিশের বক্তব্য
জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, ‘মৃত্যুর বিষয়টি এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিহত দুই বন্ধুর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।